ঢাকা , সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রমজানে মাধ্যমিক স্কুল খোলা থাকবে ১৫ দিন, প্রাথমিক স্কুল ১০ দিন খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে টেকনাফ সীমান্তের হোয়াইক্যং এলাকা দিয়ে আজ অস্ত্র নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে মিয়ানমারের সেনা সাদ সাহেব রুজু করার পর দেওবন্দের মাসআলা খতম হয়ে গেছে : মাওলানা আরশাদ মাদানী চলছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিনের বয়ান পুলিশ সদস্যসহ বিশ্ব ইজতেমায় ৭ জনের মৃত্যু বর্তমান সরকারের সঙ্গে সব দেশ কাজ করতে চায়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়পুরহাটে স্কুলছাত্র হত্যায় ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু ‘শরীফ থেকে শরীফা’ গল্প পর্যালোচনায় কমিটি গঠন করলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়

বিএনপি কি এবার আসলেই জামায়াতকে ছাড়বে?

  • নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ০১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০
  • ১৩৯৩ পঠিত

ঢাকায় একটি খবর বাতাসে উড়ছে। বিএনপি শেষ পর্যন্ত আর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ রাজনীতি করবে না। এ বিষয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সূত্র উল্লেখ করে ঢাকার একটি সংবাদপত্র এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। ওই সংবাদে সর্বশেষ স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বেশির ভাগ সদস্যই জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের জন্য মত দিয়েছেন। এখন দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এর আগেও অনেকবার জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কচ্ছেদের সংবাদ শোনা গিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত একসঙ্গেই জোটের রাজনীতি করেছে। এবারও বিএনপি জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করবে না বলে অনেকেই মনে করছেন। আবার জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের জন্য অনেক দিন ধরেই ভেতর ও বাইরে থেকে বিএনপির ওপর চাপ রয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূলে দলটির নেতা-কর্মীদের অনেকেই জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিয়ে রাজনীতি করার জন্য শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। একাত্তরে স্বাধীনতাযুদ্ধে জামায়াতের বিরোধিতার প্রশ্নে বিএনপির পক্ষ থেকে বারবারই বলা হয়েছে, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির কেবলই নির্বাচনী জোট। ভোটের রাজনীতিতে মাথায় রেখেই এ জোট করা হয়েছে।

জামায়াতে সঙ্গে বিএনপির জোট গড়ার পর বুড়িগঙ্গায় অনেক জল বয়ে গিয়েছে। এ সময়ে দেশ থেকে অনেক মানুষ হারিয়ে গিয়েছেন, যাঁরা আর ফিরে আসেননি। এদিকে করোনায় জেরবার অবস্থা, ওদিকে ধেয়ে আসছে বন্যা। করোনার ত্রাণ নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। এখন বন্যার ত্রাণ কী হয়, তা দেখার অপেক্ষা। অন্যান্য কার্যক্রমের মতো স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও নেই তেমন একটা। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক স্থবিরতার মধ্যে বিএনপির জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের বিষয়টি আলোচনা এল বেশ হুট করেই।

শুরুর দিকে ভোটের রাজনীতিতে জোটের হিসাব ভিন্নমাত্রা যোগ করেছিল। এখন দেশে নির্বাচন অর্থহীন অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ভোটের আগেই ফল নির্ধারণ হয়ে যায়। দেশে যেহেতু স্বাভাবিক ভোট প্রয়োগের কোনো অবস্থা নেই, তাই জোটের রাজনীতিও কোনো গুরুত্ব আছে বলে মনে হয় না। তাই জোটের রাজনীতির দিকে মনোযোগ খুব বেশি না দিয়ে এখন দলকে সংগঠিত করার দিকেই বিএনপির ভাবনা স্থির করা প্রয়োজন। বিএনপি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল। বিএনপিকে ভবিষ্যৎ জোট ও ভোটের রাজনীতি হিসাব মাথায় রেখে সবকিছু শুরু করতে হবে। দীর্ঘদিন বিএনপি ক্ষমতায় নেই। এই ক্ষমতায় না থাকাকে বিএনপি সুযোগ হিসাবে নিতে পারে। সরকারে গেলে কখনোই দল গোছানো হয় না। তখন ক্ষমতার নানা হিসাব-নিকাশ থাকে। বিএনপির উচিত সবকিছু পরিষ্কার করে নতুন দিনের রাজনীতি শুরু করা।

দল গোছানোটা শুরু হওয়া উচিত তৃণমূল থেকে। করতে হবে নতুন কিছু। দলের কর্মীদের তালিকা তৈরি, সম্ভব হলে সবাইকে দলীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে পারে। প্রতিটি পর্যায়ে কর্মীদের ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে পারে। এ রকম কিছু করতে পারলেই দলের সাংগঠনিক দক্ষতা ও ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বিএনপির বিশাল জনসমর্থন ও ভোটার গোষ্ঠী রয়েছে। সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বিএনপির পক্ষে এখন জোরালো অবস্থান নেওয়া সম্ভব না। নেতাদের খুশি রাখলেই যেহেতু পদ-পদবি মিলে যায়, তাহলে আর সাংগঠনিক কাজকর্ম করে লাভ কী—নেতা-কর্মীদের মধ্যে এ ধরনের মনোভাব জেঁকে বসাই স্বাভাবিক। রাজনীতির ‘ভাই’ সংস্কৃতি থেকে দলটিকে বের হয়ে আসতে হবে। কর্মীদের এমনভাবে ক্ষমতায়ন করা উচিত যাতে কর্মীরা ভাবতে শুরু করেন, আমার সিদ্ধান্ত ও মতে দল পরিচালিত হয়।

সবচেয়ে বড় কথা বিএনপির রাজনীতির দর্শন কী, এটা স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই একটি দর্শন থাকে। বিএনপিরও নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু এটা বিএনপি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে বিএনপির বুদ্ধিজীবীরা ব্যর্থ হয়েছেন। আওয়ামী লীগ, বামপন্থী, ইসলামপন্থী দলগুলোর নেতা-কর্মীরাও দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বলতে পারবেন। কিন্তু বিএনপির নেতা-কর্মীরা দলের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বলতে পারবেন বলে মনে হয় না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির এককভাবে পথচলার প্রস্তুতি শুরু করা উচিত বলে মনে হয়। বিএনপির সেই শক্তি ও সামর্থ্য আছে। দরকার এই শক্তি ও সামর্থ্যকে বাস্তবে প্রয়োগ করা। বিএনপি জামায়াতনির্ভর দলে পরিণত হয়েছে—এই ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে বিএনপিকে। নিজেদের নতুন ভাবমূর্তি তৈরি করতে হবে। জোটের রাজনীতি থাকবে। জোট থেকে অনেকেই বেরিয়ে যাবে। নতুন করে যুক্ত হবে। কিন্তু জোটের রাজনীতি মানেই সবকিছু জলাঞ্জলি দেওয়া না।

Tag :
জনপ্রিয়

রমজানে মাধ্যমিক স্কুল খোলা থাকবে ১৫ দিন, প্রাথমিক স্কুল ১০ দিন

বিএনপি কি এবার আসলেই জামায়াতকে ছাড়বে?

প্রকাশিত : ০১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০

ঢাকায় একটি খবর বাতাসে উড়ছে। বিএনপি শেষ পর্যন্ত আর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ রাজনীতি করবে না। এ বিষয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সূত্র উল্লেখ করে ঢাকার একটি সংবাদপত্র এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। ওই সংবাদে সর্বশেষ স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বেশির ভাগ সদস্যই জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের জন্য মত দিয়েছেন। এখন দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এর আগেও অনেকবার জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কচ্ছেদের সংবাদ শোনা গিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত একসঙ্গেই জোটের রাজনীতি করেছে। এবারও বিএনপি জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করবে না বলে অনেকেই মনে করছেন। আবার জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের জন্য অনেক দিন ধরেই ভেতর ও বাইরে থেকে বিএনপির ওপর চাপ রয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূলে দলটির নেতা-কর্মীদের অনেকেই জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিয়ে রাজনীতি করার জন্য শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। একাত্তরে স্বাধীনতাযুদ্ধে জামায়াতের বিরোধিতার প্রশ্নে বিএনপির পক্ষ থেকে বারবারই বলা হয়েছে, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির কেবলই নির্বাচনী জোট। ভোটের রাজনীতিতে মাথায় রেখেই এ জোট করা হয়েছে।

জামায়াতে সঙ্গে বিএনপির জোট গড়ার পর বুড়িগঙ্গায় অনেক জল বয়ে গিয়েছে। এ সময়ে দেশ থেকে অনেক মানুষ হারিয়ে গিয়েছেন, যাঁরা আর ফিরে আসেননি। এদিকে করোনায় জেরবার অবস্থা, ওদিকে ধেয়ে আসছে বন্যা। করোনার ত্রাণ নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। এখন বন্যার ত্রাণ কী হয়, তা দেখার অপেক্ষা। অন্যান্য কার্যক্রমের মতো স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও নেই তেমন একটা। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক স্থবিরতার মধ্যে বিএনপির জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের বিষয়টি আলোচনা এল বেশ হুট করেই।

শুরুর দিকে ভোটের রাজনীতিতে জোটের হিসাব ভিন্নমাত্রা যোগ করেছিল। এখন দেশে নির্বাচন অর্থহীন অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ভোটের আগেই ফল নির্ধারণ হয়ে যায়। দেশে যেহেতু স্বাভাবিক ভোট প্রয়োগের কোনো অবস্থা নেই, তাই জোটের রাজনীতিও কোনো গুরুত্ব আছে বলে মনে হয় না। তাই জোটের রাজনীতির দিকে মনোযোগ খুব বেশি না দিয়ে এখন দলকে সংগঠিত করার দিকেই বিএনপির ভাবনা স্থির করা প্রয়োজন। বিএনপি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল। বিএনপিকে ভবিষ্যৎ জোট ও ভোটের রাজনীতি হিসাব মাথায় রেখে সবকিছু শুরু করতে হবে। দীর্ঘদিন বিএনপি ক্ষমতায় নেই। এই ক্ষমতায় না থাকাকে বিএনপি সুযোগ হিসাবে নিতে পারে। সরকারে গেলে কখনোই দল গোছানো হয় না। তখন ক্ষমতার নানা হিসাব-নিকাশ থাকে। বিএনপির উচিত সবকিছু পরিষ্কার করে নতুন দিনের রাজনীতি শুরু করা।

দল গোছানোটা শুরু হওয়া উচিত তৃণমূল থেকে। করতে হবে নতুন কিছু। দলের কর্মীদের তালিকা তৈরি, সম্ভব হলে সবাইকে দলীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে পারে। প্রতিটি পর্যায়ে কর্মীদের ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে পারে। এ রকম কিছু করতে পারলেই দলের সাংগঠনিক দক্ষতা ও ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বিএনপির বিশাল জনসমর্থন ও ভোটার গোষ্ঠী রয়েছে। সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বিএনপির পক্ষে এখন জোরালো অবস্থান নেওয়া সম্ভব না। নেতাদের খুশি রাখলেই যেহেতু পদ-পদবি মিলে যায়, তাহলে আর সাংগঠনিক কাজকর্ম করে লাভ কী—নেতা-কর্মীদের মধ্যে এ ধরনের মনোভাব জেঁকে বসাই স্বাভাবিক। রাজনীতির ‘ভাই’ সংস্কৃতি থেকে দলটিকে বের হয়ে আসতে হবে। কর্মীদের এমনভাবে ক্ষমতায়ন করা উচিত যাতে কর্মীরা ভাবতে শুরু করেন, আমার সিদ্ধান্ত ও মতে দল পরিচালিত হয়।

সবচেয়ে বড় কথা বিএনপির রাজনীতির দর্শন কী, এটা স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই একটি দর্শন থাকে। বিএনপিরও নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু এটা বিএনপি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে বিএনপির বুদ্ধিজীবীরা ব্যর্থ হয়েছেন। আওয়ামী লীগ, বামপন্থী, ইসলামপন্থী দলগুলোর নেতা-কর্মীরাও দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বলতে পারবেন। কিন্তু বিএনপির নেতা-কর্মীরা দলের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বলতে পারবেন বলে মনে হয় না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির এককভাবে পথচলার প্রস্তুতি শুরু করা উচিত বলে মনে হয়। বিএনপির সেই শক্তি ও সামর্থ্য আছে। দরকার এই শক্তি ও সামর্থ্যকে বাস্তবে প্রয়োগ করা। বিএনপি জামায়াতনির্ভর দলে পরিণত হয়েছে—এই ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে বিএনপিকে। নিজেদের নতুন ভাবমূর্তি তৈরি করতে হবে। জোটের রাজনীতি থাকবে। জোট থেকে অনেকেই বেরিয়ে যাবে। নতুন করে যুক্ত হবে। কিন্তু জোটের রাজনীতি মানেই সবকিছু জলাঞ্জলি দেওয়া না।